এই পৃথিবীটা সবসময় ন্যায়ের পথে চলে না। অনেক সময় আমরা দেখি যারা অন্যের কষ্টের কারণ হয়, যারা মনের উপর আঘাত করে, তারাই দিব্যি ভালো থাকে। আর যারা সৎ থাকে, নিরবে সহ্য করে, তাদের জীবনটা যেন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতাটা অনেক কষ্টের, কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই।
বুকে লাথি দেওয়া লোকেরাই ভালো থাকে, এই কথাটার পেছনে একটা গভীর বেদনা আছে। কারণ তারা কষ্ট দেয়, ভুল বোঝে, অপমান করে, কিন্তু সমাজে তারা শক্ত অবস্থানে থাকে। তারা সাহস করে অন্যকে কষ্ট দিতে পারে, কারণ তারা জানে সমাজ তাদের বিচার করবে না বা ধরবে না। অনেকে আবার এই ধরনের আচরণকে স্মার্টনেস মনে করে প্রশংসাও করে।
কিন্তু যারা কষ্ট পায়, যারা আবেগপ্রবণ, তারা সব কিছু চেপে রাখে। তারা মুখ বুঝে সহ্য করে, কারণ তারা কাউকে আঘাত করতে চায় না। অথচ জীবনটা এমন যে, এখানে বেশি সংবেদনশীল হলেই বেশি কষ্ট পেতে হয়।তবে এটা ঠিক যে যারা আঘাত করে ভালো থাকে, তারা হয়তো বাহ্যিকভাবে সুখে থাকে। কিন্তু মন থেকে তারা কখনোই শান্তিতে থাকে না। দিনের শেষে তাদের বিবেকেও একটা প্রশ্ন জাগে,আমি কি ঠিক করলাম? এই প্রশ্নটা যত তারা এড়িয়ে চলুক না কেন, তাদের ভিতরে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়।
অন্যদিকে, যারা কষ্ট পেয়েও কাউকে কষ্ট দেয় না, তারাই আসলে সত্যিকারের শক্ত মানুষ। তারা জীবনের কঠিন অধ্যায় পার করে নতুন আলো খোঁজে। তাদের জীবন হয়তো ধীরে এগোয়, কিন্তু মনের শান্তি থাকে।সবশেষে বলা যায়, এই পৃথিবীতে সবসময় ভালো লোকেরা জিতবে এমন না। কিন্তু ভালো থাকা, ভালো কাজ করা কখনো বৃথা যায় না। কারো বুকে লাথি দিয়ে যদি কেউ আজ ভালো থাকে, কাল তার ফল সে নিজেই পাবে। কারণ জীবন অনেক কিছু মনে রাখে, সময় সব হিসাব বুঝিয়ে দেয়।


